কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের ড্রোন হামলা
সংগৃহীত ছবি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান থেকে নিক্ষেপ করা ড্রোনের আঘাতে কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ দ্য ডিরেক্টোরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন (ডিজেসিএ)-এর বিবৃতির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম টাইমস কুয়েত।
ডিজেসিএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর কয়েকটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন আঘাত হানে। এসব ড্রোনের আঘাতে বিমানবন্দরের অবকাঠামোর বিভিন্ন অংশে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তবে এই হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ডিজেসিএ বলেছে, বিমানবন্দরের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে এবং যেসব অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেগুলো দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার পটভূমিতে এই হামলার ঘটনা ঘটল। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ দিন ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে অনুষ্ঠিত এই আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই ২৭ ফেব্রুয়ারি সংলাপের সমাপ্তি ঘটে।
সংলাপ ভেঙে যাওয়ার একদিন পরই পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ভেতরে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ইসরায়েলও ইরানে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে পৃথক সামরিক অভিযান শুরু করে।
এই অভিযানের প্রথম দিনেই বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ২৮ অক্টোবর হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-সহ অন্তত ৪০ জন শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা নিহত হন বলে জানা যায়।
এই হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরান ধারাবাহিকভাবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সেনাঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে।
বিশেষ করে সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমানের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে একাধিক দফায় হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান।
সূত্র : টাইমস কুয়েত





