রাজনীতি

আমার কাছে সরকারি-বিরোধী দল আলাদা কিছু নয় : স্পিকার

নিউজ ডেস্ক

নবনির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সংসদের অভিভাবক হিসেবে তার কাছে সরকারি দল ও বিরোধী দল আলাদা কিছু নয়। সংসদের কার্যক্রমে ইনসাফ কায়েম করা এবং বিরোধী দল যাতে কার্যকর ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে পারে, সে বিষয়ে তিনি সর্বদা সচেষ্ট থাকবেন।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর অধিবেশনে দেওয়া প্রথম ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এ সময় তিনি নিজের নিরপেক্ষতা প্রমাণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি এর স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন।

নবনির্বাচিত স্পিকার বলেন, ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থের চেয়ে জাতীয় স্বার্থই হবে এই সংসদের মূল চালিকাশক্তি। তিনি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে সংসদকে দেশের সকল রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের চেয়ে জাতীয় স্বার্থকে বড় করে দেখতে হবে এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই মূলমন্ত্র নিয়ে সংসদ সদস্যদের কাজ করতে হবে বলে জানান তিনি।

স্পিকার তার বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের চড়াই-উতরাইয়ের ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে একদলীয় শাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন স্বৈরশাসকের আগমন ঘটলেও বাংলাদেশের লড়াকু জনগণ বারবার গণতন্ত্রের পতাকাকে সমুন্নত রেখেছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি স্বৈরাচারী সরকারকে বিদায় করা হয়েছে।’ তিনি আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমসহ সকল শহীদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।

জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ১২ মার্চের নির্বাচনটি আমার অভিজ্ঞতায় সবচাইতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। এখন জনগণ অধীর আগ্রহে এই নতুন সংসদের কার্যক্রম দেখার অপেক্ষায় আছে। নির্বাচনী ওয়াদা পালন করা প্রতিটি সংসদ সদস্যের প্রাথমিক দায়িত্ব।

সংসদ পরিচালনায় বিরোধী দলের গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বিরোধী দল যাতে এই সংসদে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে, সে বিষয়ে আমি সর্বদা সচেষ্ট থাকব। আমি ইতিমিধ্যেই নিরপেক্ষতার খাতিরে দলীয় পদ ত্যাগ করেছি। এখন থেকে আমার কাছে সরকারি দল বা বিরোধী দল বলে আলাদা কিছু থাকবে না; আমি সবার সহযোগিতা কামনা করি।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার। এই লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়নের দায়িত্ব বর্তমান সংসদের প্রতিটি সদস্যের ওপর ন্যস্ত। তিনি জাতীয় স্বার্থে সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনতার স্বপ্ন পূরণে কাজ করার আহ্বান জানান।

mdashakurrahman imran

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

রাজনীতি

শেয়ারবাজারে টানা উত্থানে বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস ফিরছে

বাংলাদেশ ও বিশ্বের চলমান ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে এই প্রতিবেদনে রয়েছে বিশ্লেষণ, প্রেক্ষাপট এবং সম্ভাব্য প্রভাবের বিস্তারিত আলোচনা। নির্ভরযোগ্য সূত্র,...
রাজনীতি

হাদির হত্যাকারীর সঙ্গে জুমার দিনে তোলা সেলফি প্রসঙ্গে মুখ খুললেন ডাকসু নেত্রী

হাদির হত্যাকারীর সঙ্গে জুমার দিনে তোলা সেলফি প্রসঙ্গে মুখ খুললেন ডাকসু নেত্রী — সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে হাদির হত্যাকারীর